ফলে প্রিমিয়াম পারফিউমসহ দামি ব্র্যান্ডের স্পিরিট বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে। ডিএফএস থেকে শুরু করে অ্যাভোল্টার মতো বিমানবন্দরভিত্তিক ডিউটি-ফ্রি শপগুলো এখন ক্রেতাশূন্য বললেই চলে। খবর রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব যত দীর্ঘায়িত হবে, বিলাসপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট ততটাই প্রকট হবে।
বিলাসপণ্য ও কসমেটিকস কোম্পানিগুলো আগে চীন ও ইউরোপের লোকসান পুষিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় বিমানবন্দর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ট্রানজিট/শপিং হাবগুলোর ওপর ভরসা করত।
কারণ বিমানবন্দরভিত্তিক খুচরা কেনাকাটা বা ট্রাভেল-রিটেইল খাতটি সবচেয়ে বেশি মুনাফাজনক। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষ করে মার্চের প্রথম দিকে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়।
এভিয়েশন খাতের তথ্য ও বিশ্লেষণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক বাদে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোয় গত ৩ মার্চ ফ্লাইট বাতিলের হার সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়। ২৭ মার্চ তা কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়ালেও সার্বিক ফ্লাইটের সংখ্যা এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে। এমনকি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মতো বড় ট্রানজিট পয়েন্টগুলো আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যা গুচি বা জো ম্যালোনের মতো ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রিতে ধস নামিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসপণ্য সংস্থা এলভিএমএইচ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে কেনাকাটা কমে যাওয়ায় গত প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি অন্তত ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ফরাসি গ্রুপ কেরিংও মার্চে লোকসানের কথা জানায়। অন্যদিকে স্প্যানিশ কোম্পানি পুইগের মোট বিক্রির ১০ শতাংশই আসে ট্রাভেল-রিটেইল খাত থেকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।